১৯৬৪ সালে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সের প্রথম বর্ষে ভর্তি হই এবং তখন থেকেই ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়ি, যদিও স্কুলজীবন থেকেই আমি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন থেকে যার শুরু। আর এ ছাত্র রাজনীতির কারণেই বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসার এবং তাঁকে জানার আমার সুযোগ হয়। প্রসঙ্গত, ঊনসত্তরের গণআন্দোলন ইকবাল হল (বর্তমানে জহুরুল হক হল) থেকে পরিচালিত হয়েছিল এবং আমি তখন ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, আর সেই সুবাদে তখনকার আন্দোলনের অনেক পুরোধা ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও আমার ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ হয়। তৎকালীন ডাকসুর সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদ আর আমি একই প্যানেলে নির্বাচিত হই এবং হলে পাশাপাশি রুমে অবস্থান করি।
আমার দৃষ্টিতে ষাটের দশকের প্রথম দিক থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমসাময়িক রাজনীতিবিদদের ভিড় থেকে শেখ মুজিবুর রহমান নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া শুরু করেছিলেন। তিনি ছিলেন উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবক্তা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর একনিষ্ঠ অনুসারী এবং পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তবে যে পরিচয় শেখ মুজিবকে অন্য রাজনীতিবিদ থেকে পৃথক করেছিল, তা হলো তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ‘বাঙালি পরিচিতি’র (Bengali identity) অন্যতম প্রবক্তা। আর সে কারণে তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক এস্টাবলিস্টমেন্টের চক্ষুশূল এবং পশ্চিম পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষাকারীদের কাছে একজন পাকিস্তানবিরোধী হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
এটি অনস্বীকার্য যে, পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল ভারত উপমহাদেশের মুসলমান জনগোষ্ঠীর ‘মুসলিম পরিচিতি’র (Muslim identity) ভিত্তিতে। কিন্তু নানা করণে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের এই পরিচিতির আবেদন ক্রমাগতভাবে দুর্বল হতে থাকে, ভাষা আন্দোলন যাতে ছিল একটি বিরাট মাইলফলক। শেখ মুজিব ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের এ বাঙালি পরিচিতিকে সামনে আনতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
ভাষা আন্দোলনের পরেও আমাদের স্বতন্ত্র বাঙালি পরিচিতিকে তুলে ধরতে শেখ মুজিবের প্রচেষ্টা অত্যন্ত জোরালোভাবে অব্যাহত থাকে। স্মরণ করা যেতে পারে যে, ১৯৫৬ সালে পকিস্তানের কন্সটিটুয়েন্ট অ্যাসেমব্লিতে পাকিস্তানকে পূর্ব পাকিস্তান ও (অন্যান্য প্রদেশ বিলুপ্ত করে) পশ্চিম পাকিস্তান নামে দুটি ইউনিট বা প্রদেশে বিভক্ত করে কেন্দ্রীয় সরকারকে শক্তিশালী করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সেই অ্যাসেমব্লির একজন সদস্য হিসেবে প্রদত্ত বক্তব্যে শেখ মুজিব আমাদের বাঙালি পরিচিতির স্বীকৃতি প্রদানের এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কের অবসানের আহ্বান জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন :
“স্যার (অ্যাসেমব্লির সভাপতি), আপনি লক্ষ্য করবেন যে, তারা ‘পূর্ববাংলা’ বাদ দিয়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ ব্যবহার করতে চায়। আমরা বহুবার পাকিস্তানের পরিবর্তে বাংলা (Bengal) ব্যবহার করার দাবি জানিয়েছি। বাংলার একটি ইতিহাস আছে, আছে একটি নিজস্ব ঐতিহ্য। জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই আপনি তা বদলাতে পারেন। এক ইউনিট গঠনের বিষয়টি সংবিধানে আসতে পারে। কিন্তু এখন কেন আপনারা এ বিষয়টি সামনে আনতে চাচ্ছেন? বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়টির কী হলো? এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আমরা এক ইউনিট গঠনের প্রস্তাবটির সুরাহা করতে প্রস্তুত আছি। তাই রেফারেন্ডাম বা গণভোটের মাধ্যমে এসব বিষয়ে জনগণের রায় প্রদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য অন্য পক্ষের বন্ধুদের প্রতি আমি আবেদন জানাই।”
রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রতি সর্বব্যাপী বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে আমাদের বাঙালি পরিচিতিবোধ ক্রমান্বয়ে জোরালো হতে থাকে, দুর্বল হতে থাকে মুসলিম পরিচিতিবোধ। আর সেই প্রেক্ষাপটেই শেখ মুজিব ১৯৬৬ সালে তাঁর ৬-দফা দাবি উত্থাপন করেন, যার লক্ষ্য ছিল শুধু বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবসানই নয়, একইসঙ্গে আমাদের স্বতন্ত্র বাঙালি পরিচিতির স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা। তাই দ্রুতই ৬-দফা এদেশের গণমানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়, যার প্রকৃষ্ট প্রমাণ ঊনসত্তরে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রণীত ১১-দফায় এর অন্তর্ভুক্তি। বর্তমান লেখক ছিলেন এই দুই আন্দোলনেরই একজন ক্ষুদ্র সংগঠক ও প্রত্যক্ষদর্শী।
৬-দফা এদেশের আপামর জনসাধারণের প্রাণের দাবিতে পরিণত হওয়ার কারণেই ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার অজপাড়াগাঁয়ের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধুতে পরিণত হয়েছিলেন। পরিণত হয়েছিলেন এদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে। তারই স্বীকৃতি হিসেবে আমাদের ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে তোফায়েল আহমেদ পল্টন ময়দানের এক সমাবেশ থেকে তাঁকে এই পদবিতে ভূষিত করেন।
পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রাণের দাবির প্রতি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন এবং বঙ্গবন্ধু ও আন্দোলনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের প্রতি দমন-পীড়নের কারণে ৬-দফা/১১-দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবি ক্রমান্বয়ে আরও জোরালে হতে থাকে এবং বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের আন্দোলনে পরিণত হয়ে পড়ে। বাঙলির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের এ আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু ছিলেন অবিসংবাদিত মহানায়ক। এই আন্দোলনের পরিণতিতে, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর একাত্তরের ২৫ মার্চের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ফলে এবং বঙ্গবন্ধুর নামে পরিচালিত এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। আর এ স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি পান ৫১ বছর বয়স্ক এই ক্ষণজন্মা ব্যক্তি শেখ মুজিবুর রহমান।
এটি সুস্পষ্ট যে, বিরাট রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে জন্ম না নিলেও একজন সাধারণ রাজনীতিবিদ শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির হৃদয়-মন জয় করে বঙ্গবন্ধুতে পরিণত হয়েছেন। তাদের ভালোবাসায় পরিণত হয়েছেন জাতির পিতাতে। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পদচারণা ছিল, যাঁদের অনেকেই কোনো অংশেই তাঁর চেয়ে কম মেধাবী ছিলেন না। তাঁদের অনেকেই তাঁর চেয়ে আরও বেশি উচ্চশিক্ষিত ছিলেন। ছিলেন পারিবারিকভাবে অনেক বেশি প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী। ছিলেন অনেক বেশি অর্থবিত্তের মালিক। তা সত্ত্বেও সফলতা ও সার্থকতার দিক থেকে তাঁরা বঙ্গবন্ধুর ধারেকাছেও আসতে পারেননি।
বঙ্গবন্ধুর কী ছিল, যা তাঁর সমসাময়িক রাজনীতিবিদদের মধ্যে ছিল না?
আমার মতে বঙ্গবন্ধুর অনেকগুলো অসামান্য গুণ ছিল যার কারণে অন্য কেউই তাঁর সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারেননি। তিনি বাঙালির হৃদয় স্পন্দন অনুভব করতে পেরেছিলেন এবং পেরেছিলেন তাদের মনের কথা বুঝতে। তিনি ভাষা দিতে এবং প্রাণায়িত করতে পেরেছেন তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে, যা অন্য কেউই করতে পারেননি। ফলে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের কাছ থেকে অনেক সমালোচনা ও বাধার সম্মুখীনও হয়েছিলেন। শুধু আমাদের ছাত্র সমাজের এবং পরবর্তীকালে সাধারণ জনগণের সমর্থনই তাঁর পাখায় হাওয়া জুগিয়েছিল, যদিও তা শুরুতে পুরোপুরি ছিল না।
আর বঙ্গবন্ধু মানুষের মনের কথা বুঝতে পেরেছিলেন, কারণ মানুষের প্রতি ছিল তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা। আর এই জনগণের মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যেই তিনি রাজনীতি করেছিলেন, অর্থবিত্ত বা ক্ষমতার লোভে নয়। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন: ‘সুজলা, সুফলা বাংলাদেশ সম্পদে ভর্তি। এমন উর্বর জমি দুনিয়ার খুব অল্প দেশেই আছে। তবুও এরা গরিব। কারণ, যুগ যুগ ধরে এরা শোষিত হয়েছে নিজের দোষে (পরশ্রীকাতরতা যার অন্যতম)। নিজেকে এরা চেনে না, আর যতদিন চিনবে না এবং বুঝবে না ততদিন তাদের মুক্তি আসবে না’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ. ৪৮)। তাই তিনি নিজেকে নিবেদিত এবং তাঁর সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছিলেন এদেশের সাধারণ মানুষকে জাগিয়ে তুলতে, সংগঠিত করতে এবং তাদেরকে প্রতিরোধী হিসেবে গড়ে তুলতে।
বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালিদের মনের কথাই বুঝতে পারেননি, তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মনোভাবও। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতার কারণে তাদের জীবনযাত্রা প্রণালি আর আমাদের জীবনযাত্রা প্রণালি এক নয়। তাদের স্বার্থ আর আমাদের স্বার্থ ভিন্ন। তাদের সত্য আর আমাদের সত্য এক নয়। তাই আমাদের পক্ষ থেকে শত নমনীয়তা প্রদর্শন সত্ত্বেও তাদের মধ্যে আমাদের প্রতি এক ধরনের হেয় ও বিদ্বেষাত্মক মনোভাব বিরাজমান ছিল। তাই একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের এক রাষ্ট্র হিসেবে বিরাজ করা ছিল বহুলাংশে অবাস্তব।
বঙ্গবন্ধু মানুষকে শুধু মন উজাড় করে ভালোই বাসতেন না এবং তাদের কল্যাণে রাজনীতিই করতেন না, বরং জনগণের স্বার্থে তিনি চরম আত্মত্যাগ করতেও প্রস্তুত ছিলেন এবং করেছিলেনও। তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘যে কোনো মহৎ কাজ করতে হলে ত্যাগ ও সাধনার প্রয়োজন। যারা ত্যাগ করতে প্রস্তুত নয় তারা জীবনে ভালো কাজ করতে পারে নাই’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ. ১১৮)। তিনি তাঁর পিতার ‘sincerity of purpose and honesty of purpose থাকার উপদেশের (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ. ২১) প্রতি চিরকাল অটল ছিলেন এবং পরিণত বয়সের বিরাট সময়ই জেলে কাটিয়েছিলেন। জনগণের স্বার্থে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। গণআন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত না হলে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড ছিল অবধারিত।
আমার মতে যে অসাধারণ গুণ বঙ্গবন্ধুকে তাঁর সমসাময়িকদের থেকে পৃথক করেছে, তা হলো তাঁর অদম্য সাহসিকতা। ক্ষমতাসীনদের রক্তচক্ষু, এমনকি তাদের খড়্গহস্ত তাঁর মধ্যে ভয়ের উদ্রেক করতে পারেনি। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের বিপক্ষে তাঁর অবস্থান ছিল অনড়। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন ‘একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল থাকতে পারে এবং আইনে এটা থাকাই স্বাভাবিক’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ. ১৩৪)। তিনি আরও বিশ্বাস করতেন যে, ক্ষতাসীনদের সমালোচনা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অপরিহার্য অনুষঙ্গ এবং ‘বিরোধী দল সৃষ্টি করতে না পারলে এ দেশে একনায়কত্ব চলবে’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ. ১২০)। মানুষের কল্যাণে ক্ষমতাসীনদের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি অসম সাহসিকতা প্রদর্শন করে ভয়কে জয় করতে পেরেছিলেন। অসম সাহসিকতার শক্তিতে চলার পথের সকল বাধা-বিপত্তিকে তিনি কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলেন। তিনি অর্জন করতে পেরেছিলেন এমন অনন্য সফলতা, যা আপাতত দৃষ্টিতে সম্ভব ছিল না।
সর্বোপরি, আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবদ্দশায় নিজের মধ্যে রূপান্তর ঘটাতে পেরেছিলেন। তিনি যখন বড় হচ্ছিলেন তখন সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি ছিল আমাদের দেশের বড় বেশিষ্ট্য, তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী-তে যার অনেক বর্ণনা রয়েছে। বস্তুত তিনি প্রথম জীবনে সাম্প্রদায়িকতার শিকারও হয়েছিলেন। ছোটবেলায় গোপালগঞ্জে থাকাকালীন সময়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর এক বন্ধু ‘মালেককে হিন্দু মহাসভা সভাপতি সুরেন ব্যানার্জির বাড়িতে ধরে নিয়ে গিয়ে মারপিট করছে।’ তিনি দলবল নিয়ে গিয়ে মারপিট করে মালেককে উদ্ধার করেন, যে কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তিনি পরে গ্রেপ্তার হন (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ. ১২)। সাম্প্রদায়িকার রাজনীতির এমন প্রেক্ষাপটে বেড়ে উঠলেও তিনি পরিণত বয়সে সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছিলেন। ধারণ করতে পেরেছিলেন আমাদের ‘বাঙালি পরিচিতি’কে এবং ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছিলেন বাংলাদেশের সংবিধানে। এটি ছিল দৃষ্টিভঙ্গি রূপান্তরের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যেমন দৃষ্টান্ত আমরা দেখেছি মহাত্মা গান্ধী ও নেলসন মেন্ডেলার মত প্রাতস্মরণীয় নেতাদের জীবনে।
পরিশেষে, আমার প্রথম জীবনের নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- যিনি আমার ধমনিতে প্রবাহিত রক্তকে উত্তাল করতে এবং আমার মধ্যে দেশপ্রেম ও মানব কল্যাণ্যের ব্রত জাগ্রত করতে পেরেছিলেন- তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি। শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। একই সঙ্গে প্রার্থনা করি, এই মানুষটির শেখানো মানব কল্যাণের ব্রতে যেন আমৃত্যু অটল থাকতে পারি। তাহলেই তাঁর স্মৃতির প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন হবে বলে আমি মনে করি।
সম্পাদক, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক
তথ্য সূত্র: সমকাল, ১৭ মার্চ ২০২০

Leave a Reply