কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে রাজনীতি আজ জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যমে পরিণত হয়ে পড়েছে। রাজনীতি আর দুর্নীতি প্রায় সমর্থক হয়ে গিয়েছে। রাজনীতি আজ একটি লাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। বস্তুত রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতা ও ছত্রছায়াই আমাদের দেশে দুর্নীতির বিস্তার ঘটছে। রাষ্ট্রীয় নজরদারিত্বের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান অকার্যকারিতার ফলে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতি তথা অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার এক অপসংস্কৃতি আজ আমাদের দেশে গড়ে ওঠেছে। আর এ অপসংস্কৃতির কারণেই দুর্নীতি আমাদের সমাজে বেসামাল পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়ার এক অশুভ প্রতিযোগিতা বিরাজ করছে।
ক্ষমতায় যাওয়ার অশুভ প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে আমাদের রাজনীতিবিদরা কোনো অপকর্ম থেকেই যেন নিজেদেরকে বিরত রাখেন না। তারা নীতি-আদর্শ, এমনকি মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ বিসর্জন দিতেও কণ্ঠাবোধ করেন না। তারা ক্ষুদ্র কোটারি স্বার্থে সংবিধানের মত গুরুত্বপূর্ণ দলিল কাটা-ছেঁড়া করতেও দ্বিধা করেন না। পাতানো ও প্রহসনমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানেও পিছপা হন না। আর ক্ষমতায় যাওয়ার এ সর্বাত্মক প্রতিযোগিতার ফলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সনাতন পন্থা তথা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া আমাদের দেশে আজ ভেঙে পড়েছে। ফলে জাতি হিসেবে আজ আমরা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছি। আমরা জানি না এর পরিণাম কী হবে। তবে আমরা মনে করি যে, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের অন্যতম পন্থা হলো আমাদের রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করা, কারণ রাজনীতিবিদদেরই দায়িত্ব রাষ্ট্র পরিচালনা করা।’


Leave a Reply