দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিনই অস্থির হচ্ছে। অনিশ্চিত অবস্থার দিকে যাচ্ছে দেশ। বিএনপির দুদিনের হরতাল শেষে আজ আবার হরতাল দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সংলাপের কথা উচ্চারিত হচ্ছে, কিন্তু সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই অস্থির ও অনিশ্চিত সময় থেকে উত্তরণ বিষয়ে কালের কণ্ঠের মুখোমুখি হয়েছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলী হাবিব
বদিউল আলম মজুমদার : এটি নিঃসন্দেহে একটি দুঃখজনক ঘটনা। তারা যা করেছে, তা নিন্দনীয়। তারা যে তাণ্ডব চালিয়েছে, সহিংসতা ঘটিয়েছে, এটা অগ্রহণযোগ্য।
হ্যাঁ, অবরোধ-সমাবেশ করার অধিকার তাদের আছে। তবে এই অধিকার ততক্ষণই আছে, যতক্ষণ না তারা অন্যের অধিকার হরণ করছে। অন্যের নাগরিক অধিকার, চলাফেরার অধিকার, নিরাপত্তা ব্যাহত না করে সমাবেশ-অবরোধ করার অধিকার তাদের আছে। কিন্তু ৫ মে সমাবেশ করার নামে তারা যা করেছে, তাতে অন্যের নাগরিক অধিকার ব্যাহত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা অনেক দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে, ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। অনেক দরিদ্র মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। এটা অবশ্যই নিন্দনীয়। এর দায় তারা এড়াতে পারে না। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে পারে, ৫ মের ঘটনাবলির জন্য সরকারের দায় কতটুকু? সরকার কি দায় এড়াতে পারে? আমার তো মনে হয়, সরকারও এর দায় এড়াতে পারে না। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার জানা উচিত ছিল, তারা কী করতে পারে। কী ধরনের সহিংসতা তারা চালাতে পারে, কী রকম বিশৃঙ্খলা তারা সৃষ্টি করতে পারে। সেটা সরকার যদি না জানে, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা যদি না জানে, তাহলে ধরে নিতে হবে, গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে না। আর এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটবে, এটা জেনেশুনে যদি সরকার তা করে থাকে অর্থাৎ সমাবেশের অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে সেটা হবে সরকারের দায়িত্বহীনতার পরিচয়। আর যদি না জানে, তাহলে সেটা সরকারের ব্যর্থতা। হেফাজতের কর্মসূচি ছিল অবরোধের। কেন তাদের শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হলো- এ প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে।
বদিউল আলম মজুমদার : এ বিষয়ে আমার কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত দিতে পারি। আমার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আমি বলতে পারি। আমার মনে হয়, হেফাজতকে নিয়ে খেলা করা হয়েছে। আমাদের দেশের দুই প্রধান দলই বোধ হয় হেফাজতকে নিয়ে খেলা করেছে। উভয় দলই চেয়েছে, হেফাজতকে তাদের পক্ষে আনতে। এটা হতে পারে, বিরোধী দল সফল হয়েছে, সরকারি দল সফল হয়নি। আগেরবার যেমন সরকারি দল সফল হয়েছিল, বিরোধী দল ব্যর্থ হয়েছিল। এটা শোনা যায়, আমি নিশ্চিত নই, বিরোধী দল চেয়েছিল, হেফাজত থেকে যাক। অবস্থান করুক। কিন্তু সরকারি দল চেয়েছিল, হেফাজত সমাবেশ করে চলে যাক। এবার উল্টোটি ঘটেছে। এবারের ঘটনাটি নিয়ে নানা ধরনের গুজব আছে। সরকারি দলের অনেকে নাকি দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। আমি জানি না। কিন্তু মাওলানা শফী সমাবেশে না এসে মাঝপথ থেকে নাকি ফিরে গেছেন। কেন ফিরে গেলেন? তাঁকে কি আসতে দেওয়া হলো না, নাকি অন্য কোনো কারণ- সেটা জানা যায় না। বিভিন্ন ধরনের ধারণা আছে। আমরা আসলে এই বিষয়টিকে নিয়ে একটা শূন্যতার মধ্যে আছি। বলা যেতে পারে, তথ্য শূন্যতা। এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। ওই দিন তাঁর কাছ থেকেও কিছু জানা যায়নি। ৫ মে রাতে কী ঘটল, তা নিয়েও নানা গুজব আছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলা হয়নি। গুজব তো তখনই ছড়ায়, যখন কোনো তথ্য থাকে না। সংশ্লিষ্টরা, বিশেষ করে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া না হলে গুজব ছড়ায় বেশি। সরকার তো একটা প্রেসনোট দেবে, জানাবে। এটা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সরকার যখন এ দায়িত্বটা পালন করে না, তখন বিভিন্ন রকমের গুজব ছড়ায়, যাকে বলে ওয়াইল্ড রিউমার। এখন নানা রকমের ওয়াইল্ড রিউমার আছে। কোনটা যে সত্য, তা আমরা নিশ্চিত নই। আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হতে পারে, দুই দলই খেলা করার চেষ্টা করেছে। দুই দলই হেফাজতকে পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ব্যবহার করতে চেষ্টা করেছে। এক দল সফল হয়েছে, অন্য দল ব্যর্থ হয়েছে। তবে সরকার তাদের সরিয়ে দিতে সফল হয়েছে।
বদিউল আলম মজুমদার : এসব ঘটনা যখনই ঘটে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিরোধী দল করছে বা করেছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দোষ চাপানো হয় সরকারের ওপর। এবারও যেমন সরকার বলছে, হেফাজত-জামায়াত-বিএনপি এসব কাজ করেছে। অন্যদিকে হেফাজত বলছে, সরকারি দলের লোকজন করেছে। কারা করেছে, সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য একটা নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। অতীতে আরো অনেক ঘটনা ঘটেছে। বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা হয়েছে। তদন্ত করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নানা নাটক সাজানো হয়েছে। একটা নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া খুব জরুরি। কারা দোষী, সেটা খুঁজে বের করা দরকার। যারা এর জন্য দায়ী, তাদের খুঁজে বের করে যদি শাস্তি দেওয়া না হয়, তাহলে এ রকম চলতেই থাকবে। আমি মনে করি, একটি তদন্ত হওয়া দরকার। একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে দলনিরপেক্ষ একটি তদন্ত হতে পারে, যাতে সত্যিকারের তথ্যগুলো বেরিয়ে আসে; ঘটনার নেপথ্যের শক্তিকে চিহ্নিত করা যায়।
বদিউল আলম মজুমদার : শর্তসাপেক্ষে সমাবেশ করার অনুমতি হেফাজতের ছিল। তাদের দেওয়া সময়সীমা যখন পার হয়ে গেল, সেটা বেআইনি। তখন সরকারের দায়িত্ব আছে। সরকারকে তখন ভূমিকা নিতেই হবে। সরকারের ব্যবস্থা নেওয়ার যৌক্তিকতা আছে, কিন্তু সরকার ব্যবস্থা কিভাবে নিয়েছে, সেটা যৌক্তিক কি না, তা ভেবে দেখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সফল শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, ধৈর্যই হচ্ছে বীরত্ব। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রশিক্ষিত। কাজেই তাদের কাছ থেকে আমরা শৃঙ্খলা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা আশা করি। দেশের মানুষের জানমালের প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীলতা আশা করা বা দাবি করাটা অযৌক্তিক নয়। সেদিন কী ঘটেছিল, তা আমরা জানি না, কারণ সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। ওখানে জড়িত ছিলেন, এমন দায়িত্বশীল অনেকেই বলেছেন, সেদিন ওখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ জন্যই তদন্ত হওয়াটা দরকার বলে মনে করি। তদন্ত হলে বিষয়টির সুরাহা হবে। কী ঘটেছিল সেটা জানা যাবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ হিসেবে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকে, তদন্তে সেটাও বেরিয়ে যাবে।
বদিউল আলম মজুমদার : হ্যাঁ, নানা গুজব তো আছে। হাজার হাজার লোক নিহত হয়েছে, এমন কথা বলা হয়েছে। তদন্ত হলে সব বেরিয়ে যাবে। তবে এ বিতর্কের অবসান হওয়া দরকার।
কালের কণ্ঠ : হেফাজতের এই কর্মসূচির আগে বিএনপির হরতাল হয়ে গেল। আজ জামায়াতের হরতাল। এ অবস্থায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? কোন দিকে যাচ্ছে দেশ?
বদিউল আলম মজুমদার : খুব একটা ভালো দিকে যাচ্ছি বলে আমার তো মনে হয় না। এই যে অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা- এ সবকিছুর পেছনে একটি মূল কারণ রয়েছে। সেই কারণটা কী, তা আমাদের জানতে হবে। আমার তো মনে হয় এর পেছনে দুটো উপসর্গ আছে। একটা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের বিচার, অন্যটা আগামী নির্বাচন। এখন যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আমার তো মনে হয়, এর পেছনে রয়েছে ভোটের রাজনীতি ও নির্বাচন। ঘটনার পেছনের ঘটনা হচ্ছে নির্বাচন। আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে, কী ধরনের সরকার থাকবে আগামী নির্বাচনের সময়, এটাই হচ্ছে বিবেচ্য বিষয়। এ বিষয়ে, অর্থাৎ আগামী নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে যদি একটি ঐকমত্য না হয়, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে যদি কোনো সমঝোতা কিংবা সমাধান না হয়, তাহলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আমার মনে হয় না। আসল রোগ হচ্ছে নির্বাচন। হেফাজত তো উপসর্গ। সরকারি ও বিরোধী দল যদি মূল রোগ সারানোর উদ্যোগ নেয়, তাহলেই সমাধান হবে। অন্যথায় হবে না।
বদিউল আলম মজুমদার : সমাধান একটাই। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেই নির্বাচন হতে হবে সবার অংশগ্রহণে। যে নির্বাচনটা হবে, সেই নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সেই নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে- এটাও নিশ্চিত করতে হবে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে তা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে। এটাই হবে আমাদের মানদণ্ড। এখন যে অনড় অবস্থা, যা অচলাবস্থার সৃষ্টি করছে- এর সংগত কারণ আছে। আওয়ামী লীগ মনে করে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যেটা তারা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছে- দলীয় সরকারের অধীনে বা বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে- এখানে তারা একটি ছাড় দিতে রাজি আছে বলে মনে হয়। তারা বোধ হয় এমনটি চাইছে যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হতে পারে, যেখানে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারে। তারা এতটুকু ছাড় দিতে রাজি আছে, এই ভেবে যে তা যদি হয়, তাহলে তাদের নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা থাকে। বিরোধী দল মনে করে, এ রকম হলে তারা নির্বাচনে জিতবে না। তারা মনে করে, যদি নির্দলীয় সরকার নির্বাচনের সময় থাকে, তাহলে তারা ভোটে জিতবে। তারাও এখানে ছাড় দিতে চায় না, কারণ ছাড় দেওয়া মানেই ঝুঁকি নেওয়া। পরাজয়ের ঝুঁকি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে পরাজয়ের ঝুঁকি নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এটাই হচ্ছে ক্ষমতার রাজনীতি। সবাই নিজের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে চায়, কারণ এর প্রণোদনা আছে। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল না করলে আজকের এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হতো না, এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আজ যে বিতর্ক হচ্ছে, এটাও হতো না। আর একটা আশঙ্কা আমার আছে। বিএনপি এখন চরম চাপের মুখে। সরকারও চাপের মুখে। আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি না জিততে পারে, তাদের অস্তিত্বের সংকট দেখা দিতে পারে। সরকারি দল বা জোটও যদি ভোটে জিততে না পারে, তারাও ঝুঁকির মুখে পড়ে যাবে। এই ভোটের রাজনীতির সমীকরণেই বিএনপির জামায়াতীকরণ হচ্ছে।
বদিউল আলম মজুমদার : এখন জরুরি ভিত্তিতে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে আলাপ-আলোচনা হওয়া দরকার। শুধু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে নয়, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই আলাপ-আলোচনা হতে হবে। বাংলাদেশ যে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, সেটা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই আলাপ-আলোচনা হওয়া দরকার। হ্যাঁ, সংলাপের কথা মুখে অনেক বলা হচ্ছে। কিন্তু ভোটে জেতার যে রাজনীতি, সেখানে জয় নিশ্চিত না করে সংলাপে কেউ কি বসতে রাজি হবে? ‘তালগাছটা আমার’- এই যদি মনোভাব থাকে, তাহলে তো সংলাপের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে বলা যাবে না।
বদিউল আলম মজুমদার : ভালো প্রশ্ন। আমাদের নির্বাচন কমিশন শুরুতে বলেছিল, তারা শক্তিশালী। এখন বলে, যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। বলা হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের আরো ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। নির্বাচনে সরকারের প্রভাব থেকে নির্বাচন কমিশন মুক্ত থাকতে পারবে- এটা অনেকে মনে করেন না।
বদিউল আলম মজুমদার : অনেক দূরে। সুশাসন কায়েম করার দায়িত্ব তাদের, যারা ক্ষমতাসীন। আমরা তো কেবল প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করতে পারি। চাপ সৃষ্টি করতে পারি। প্রতিবাদ করতে পারি। সোচ্চার হতে পারি, কিন্তু ক্ষমতায় যারা যায়, তারা যদি গণতান্ত্রিক আচরণ না করে, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার চর্চা না করে, আইনের শাসন কায়েম না করে, মানবাধিকার নিশ্চিত না করে, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে- তাহলে আমরা জোর করে কিছু করতে পারব না। গত ২০ বছরে আমাদের একটি বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। আমাদের নাগরিকসমাজকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
বদিউল আলম মজুমদার : সে সিদ্ধান্তটিও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিতে হবে। তবে আমি মনে করি, আমাদের একটি নির্বাচিত সরকার চাই। এর বিকল্প নেই। ওটাই আমাদের সমাধান। তবে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যদি সমঝোতার ভেতর দিয়ে একটা জাতীয় সরকার হয়, সেটা হতে পারে। কিন্তু নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচিত সরকারের বিকল্প নেই।
বদিউল আলম মজুমদার : রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের এক নম্বর মানুষ। রাষ্ট্র পরিচালিত হয় রাষ্ট্রপতির নামে। তিনি তো যেকোনো উদ্যোগই নিতে পারেন। তাঁর যেকোনো উদ্যোগ বা ভূমিকা যৌক্তিক হবে। আমি মনে করি, বিষয়টি তিনি ভেবে দেখতে পারেন। মানতে হবে, আমরা একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছি। এই অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে। আমাদের রাজনীতিবিদদেরও আজ প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়ার সময় এসেছে। জাতীয় স্বার্থে রাজনীতিবিদরা সেই প্রজ্ঞার পরিচয় দেবেন বলে আমি মনে করি।
বদিউল আলম মজুমদার : আপনাকেও ধন্যবাদ।


Leave a Reply