ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন হচ্ছে আইন অনুযায়ী যথাসময়ে- এতে আমরা আনন্দিত। সরকারকে ধন্যবাদ যে, যথাসময়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন হওয়াটা জরুরি। কারণ নির্বাচন না হলে আইনগতভাবে পরিষদ গঠিত হয় না। আর পরিষদ গঠিত না হলে সংবিধান লঙ্ঘিত হয়। সংবিধানের ৫৯ ধারায় প্রশাসনের সকল স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাতে বলা রয়েছে, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার থাকবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমগুলোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হবে। পাশাপাশি জন-শৃঙ্খলা রক্ষা স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব। প্রশাসনের সকল স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১১ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪ হাজার ২৭৫টি ইউপির নির্বাচন পর্যায়ক্রমে ৬ দফায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফা ২২ মার্চ ৭৫২টি, দ্বিতীয় দফা ৩১ মার্চ ৭১০টি, তৃতীয় দফা ২৩ এপ্রিল ৭১১টি, চতুর্থ দফা ৭ মে ৭২৮টি, পঞ্চম দফা ২৮ মে ৭১৪টি এবং ষষ্ঠ দফা ৪ জুনে পর্যায়ক্রমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বলে রাখা প্রয়োজন, সর্বশেষ ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১১ সালের মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত। তখনও কয়েক দফায় নির্বাচন হয়েছিল। তবে এবারই প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে দলের পরিচয় ও প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত (মহিলা) সদস্যপদে আগের মতোই নির্দলীয় হচ্ছে।

দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের পেছনে দুটি যুক্তি দেখানো হয়। এক. এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। আর দ্বিতীয়টি হলো, এর দ্বারা প্রার্থীদের ওপর দলীয় শৃঙ্খলা আরোপিত হবে, যা তাদের দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করবে। তবে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়ার যৌক্তিকতা আমরা দেখি না। কারণ নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। আর নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হতে পারে, নির্দলীয়ও হতে পারে। তাতে কিছু আসে যায় না। তাই দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের শিকড় তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার যুক্তি অসার। এ ছাড়াও আমাদের দেশে দলের শৃঙ্খলা আরোপের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক নয়। দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অনেক অপকর্মে যুক্ত। অথচ দলের তরফ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার ঐতিহ্য আমাদের এখানে সেভাবে গড়ে ওঠেনি। বস্তুত আমাদের দলগুলোতে তেমন শৃঙ্খলা নেই। তাই দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনে দলের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার যুক্তিও হালে পানি পায় না।

উল্টো দলীয় ভিত্তিতে ইউপি নির্বাচন হওয়ায় এরই মধ্যে কতগুলো নতুন বিষয় দৃশ্যমান। প্রথমত, ইতিমধ্যে নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অনেক জায়গায় লাখ লাখ টাকা এমনকি কোটি টাকা লেনদেনের খবর শোনা যায়। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও কলুষিত হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, অনেক জায়গায় যথাযথ ব্যক্তিদের মনোনয়ন না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে তৃণমূল থেকে যাদের সুপারিশ করা হয়েছে, উপরে এসে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাদের অনুগত কিংবা আত্মীয়স্বজনের মনোনয়ন নিশ্চিত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আমি একটি ইউনিয়ন পরিষদের কথা জানি, যেখানে দু-দুবার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হওয়ার পরও, এমনকি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও সেই ব্যক্তিকে মনোনয়নবঞ্চিত করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, এবার যে নতুন বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে তা হলো মনোনয়নপত্র জমাদানে বাধা। অনেক জায়গায় মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিরোধী শিবির থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ক্ষমতাসীনদের হুমকি ও বাধার কারণে ২২ মার্চ প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য তাদের শতাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। সোমবার মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হয়। খবর বলছে, ৭০টি ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী নেই।

চতুর্থত, এ নির্বাচনে এরই মধ্যে ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বি্বতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এটা অস্বাভাবিক। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কদাচ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এবারকার নির্বাচনে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোর করে মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার কারণেই এমনটি ঘটছে।

পঞ্চমত, এ নির্বাচনের অনেক আগ থেকেই দ্বন্দ্ব-হানাহানি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে হানাহনির কারণে একজনের মৃত্যুও ঘটেছে। এর আগে পৌর নির্বাচনেও আমরা দেখেছি, ২০ দিনে (৭ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫) ৫০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। একদিনে ১১টি সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে অনেক ভোটারই ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পাননি। যদিও সাধারণত দেখা যায়, নির্বাচনের দিনে জয়-পরাজয়ের উত্তাপের কারণে সহিংসতা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়ার কারণে আগে থেকেই অনেক জায়গায় এ অশুভ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে; সহিংসতার মাত্রা, উত্তাপ ও উত্তেজনা তত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। অনেকের এও ভয়, এ দ্বন্দ্ব-হানাহানি ঘরে ঘরে পেঁৗছতে পারে। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের কারণেই মূলত এসব নেতিবাচক দিক ও অশুভ সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সুযোগ হয়েছে বলে আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে।

তবে এই অশুভ প্রতিযোগিতায় ক্ষমতাসীন দলই সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে। মনোনয়ন বাণিজ্যসহ সংশ্লিষ্ট নানা অপকর্ম সংঘটিত হওয়ার কারণ একটাই_ এখানে মনোনয়ন পাওয়াই মূল কথা। তাদের যে প্রার্থীই মনোনয়ন পাবে, ধারণা করা হয় সে-ই জয়লাভ করবে। তাই এটাই স্বাভাবিক যে, ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে সকল চেষ্টা ও কার্যক্রম নেওয়া হবে। এমনিতেই আমাদের আদর্শহীন রাজনীতিতে দলীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার কোনো শক্তিশালী বন্ধন নেই। এখন যা-ও ঐক্য রয়েছে তা-ও এই স্থানীয় পর্যায়ের দলীয় নির্বাচনের কারণে বিনষ্ট হয়ে যাবে বলে আমাদের আশঙ্কা। এটা কেবল দলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। বরং স্থানীয় পর্যায়েও সামাজিক সম্প্র্রীতির জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আমাদের বিশ্বাস।

এখন অনেকেরই প্রশ্ন_ কেমন নির্বাচন হবে? আমাদের প্রত্যাশা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে অভিজ্ঞতা থেকে আশাবাদী হওয়া দুরূহ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের নির্বাচনী মানে যে নিম্নমুখিতা সৃষ্টি হয়েছে, তা গত কয়টি স্থানীয় নির্বাচনেও অব্যাহত রয়েছে। এসব নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও কমিশন আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে পারেনি। আরও অভিযোগ উঠেছে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করার। আগামী নির্বাচনেও কমিশন ও সরকারের এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে আশা করা যাবে? 

 
তথ্যসূত্র: সমকাল, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন হচ্ছে আইন অনুযায়ী যথাসময়ে- এতে আমরা আনন্দিত। সরকারকে ধন্যবাদ যে, যথাসময়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন হওয়াটা জরুরি। কারণ নির্বাচন না হলে আইনগতভাবে পরিষদ গঠিত হয় না। আর পরিষদ গঠিত না হলে সংবিধান লঙ্ঘিত হয়। সংবিধানের ৫৯ ধারায় প্রশাসনের সকল স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাতে বলা রয়েছে, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার থাকবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমগুলোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হবে। পাশাপাশি জন-শৃঙ্খলা রক্ষা স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব। প্রশাসনের সকল স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১১ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪ হাজার ২৭৫টি ইউপির নির্বাচন পর্যায়ক্রমে ৬ দফায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফা ২২ মার্চ ৭৫২টি, দ্বিতীয় দফা ৩১ মার্চ ৭১০টি, তৃতীয় দফা ২৩ এপ্রিল ৭১১টি, চতুর্থ দফা ৭ মে ৭২৮টি, পঞ্চম দফা ২৮ মে ৭১৪টি এবং ষষ্ঠ দফা ৪ জুনে পর্যায়ক্রমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বলে রাখা প্রয়োজন, সর্বশেষ ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১১ সালের মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত। তখনও কয়েক দফায় নির্বাচন হয়েছিল। তবে এবারই প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে দলের পরিচয় ও প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত (মহিলা) সদস্যপদে আগের মতোই নির্দলীয় হচ্ছে।

দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের পেছনে দুটি যুক্তি দেখানো হয়। এক. এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। আর দ্বিতীয়টি হলো, এর দ্বারা প্রার্থীদের ওপর দলীয় শৃঙ্খলা আরোপিত হবে, যা তাদের দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করবে। তবে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়ার যৌক্তিকতা আমরা দেখি না। কারণ নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। আর নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হতে পারে, নির্দলীয়ও হতে পারে। তাতে কিছু আসে যায় না। তাই দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের শিকড় তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার যুক্তি অসার। এ ছাড়াও আমাদের দেশে দলের শৃঙ্খলা আরোপের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক নয়। দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অনেক অপকর্মে যুক্ত। অথচ দলের তরফ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার ঐতিহ্য আমাদের এখানে সেভাবে গড়ে ওঠেনি। বস্তুত আমাদের দলগুলোতে তেমন শৃঙ্খলা নেই। তাই দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনে দলের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার যুক্তিও হালে পানি পায় না।

উল্টো দলীয় ভিত্তিতে ইউপি নির্বাচন হওয়ায় এরই মধ্যে কতগুলো নতুন বিষয় দৃশ্যমান। প্রথমত, ইতিমধ্যে নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অনেক জায়গায় লাখ লাখ টাকা এমনকি কোটি টাকা লেনদেনের খবর শোনা যায়। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও কলুষিত হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, অনেক জায়গায় যথাযথ ব্যক্তিদের মনোনয়ন না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে তৃণমূল থেকে যাদের সুপারিশ করা হয়েছে, উপরে এসে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাদের অনুগত কিংবা আত্মীয়স্বজনের মনোনয়ন নিশ্চিত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আমি একটি ইউনিয়ন পরিষদের কথা জানি, যেখানে দু-দুবার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হওয়ার পরও, এমনকি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও সেই ব্যক্তিকে মনোনয়নবঞ্চিত করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, এবার যে নতুন বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে তা হলো মনোনয়নপত্র জমাদানে বাধা। অনেক জায়গায় মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিরোধী শিবির থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ক্ষমতাসীনদের হুমকি ও বাধার কারণে ২২ মার্চ প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য তাদের শতাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। সোমবার মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হয়। খবর বলছে, ৭০টি ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী নেই।

চতুর্থত, এ নির্বাচনে এরই মধ্যে ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বি্বতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এটা অস্বাভাবিক। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কদাচ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এবারকার নির্বাচনে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোর করে মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার কারণেই এমনটি ঘটছে।

পঞ্চমত, এ নির্বাচনের অনেক আগ থেকেই দ্বন্দ্ব-হানাহানি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে হানাহনির কারণে একজনের মৃত্যুও ঘটেছে। এর আগে পৌর নির্বাচনেও আমরা দেখেছি, ২০ দিনে (৭ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫) ৫০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। একদিনে ১১টি সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে অনেক ভোটারই ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পাননি। যদিও সাধারণত দেখা যায়, নির্বাচনের দিনে জয়-পরাজয়ের উত্তাপের কারণে সহিংসতা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়ার কারণে আগে থেকেই অনেক জায়গায় এ অশুভ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে; সহিংসতার মাত্রা, উত্তাপ ও উত্তেজনা তত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। অনেকের এও ভয়, এ দ্বন্দ্ব-হানাহানি ঘরে ঘরে পেঁৗছতে পারে। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের কারণেই মূলত এসব নেতিবাচক দিক ও অশুভ সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সুযোগ হয়েছে বলে আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে।

তবে এই অশুভ প্রতিযোগিতায় ক্ষমতাসীন দলই সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে। মনোনয়ন বাণিজ্যসহ সংশ্লিষ্ট নানা অপকর্ম সংঘটিত হওয়ার কারণ একটাই_ এখানে মনোনয়ন পাওয়াই মূল কথা। তাদের যে প্রার্থীই মনোনয়ন পাবে, ধারণা করা হয় সে-ই জয়লাভ করবে। তাই এটাই স্বাভাবিক যে, ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে সকল চেষ্টা ও কার্যক্রম নেওয়া হবে। এমনিতেই আমাদের আদর্শহীন রাজনীতিতে দলীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার কোনো শক্তিশালী বন্ধন নেই। এখন যা-ও ঐক্য রয়েছে তা-ও এই স্থানীয় পর্যায়ের দলীয় নির্বাচনের কারণে বিনষ্ট হয়ে যাবে বলে আমাদের আশঙ্কা। এটা কেবল দলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। বরং স্থানীয় পর্যায়েও সামাজিক সম্প্র্রীতির জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আমাদের বিশ্বাস।

এখন অনেকেরই প্রশ্ন_ কেমন নির্বাচন হবে? আমাদের প্রত্যাশা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে অভিজ্ঞতা থেকে আশাবাদী হওয়া দুরূহ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের নির্বাচনী মানে যে নিম্নমুখিতা সৃষ্টি হয়েছে, তা গত কয়টি স্থানীয় নির্বাচনেও অব্যাহত রয়েছে। এসব নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও কমিশন আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে পারেনি। আরও অভিযোগ উঠেছে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করার। আগামী নির্বাচনেও কমিশন ও সরকারের এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে আশা করা যাবে? – See more at: http://bangla.samakal.net/2016/02/28/195983#sthash.L2BzO2ef.dpuf